ডিম পাহাড়ের রুপকথাঃ
থানচি-আলীকদম রাস্তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাটার নাম ‘ডিম পাহাড়’। পাহাড়টা দেখতে ডিমের মত বলেই এমন নাম। স্থানীয় ম্রো’রা এই পাহাড় কে ডাকে ‘ক্রাউডং’ পাহাড়। এত সুন্দর পাহাড় অন্তত বাংলাদেশে আর কোথাও নাই। আপনি যখন বাইকে করে এই পাহাড়ের উপর আসবেন অদ্ভুত একটা ঠাণ্ডা বাতাস সারা শরীর দিয়ে বয়ে যাবে।
ডিম পাহাড়ে কোন এক অজানা কারণে সবসময় ঠাণ্ডা বাতাস থাকে। ব্যাপারটা একদম সরাসরি অনুভব করা যায়। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ডিম পাহাড়ে পৌঁছালেই ঠাণ্ডা বাতাস। আর পাহাড় থেকে যে ভিউ পাওয়া যায় সেটা এত বেশি সুন্দর যে আপনাকে দেখতে হবে, লিখে বোঝানো সম্ভব না।
আলীকদমে বসবাসকারী টিপরা (ত্রিপুরা) সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের মধ্যে ডিম পাহাড় নিয়ে একটা উপকথা প্রচলিত আছে। উপকথাটা এই রকম, উশে নামে খুব মা ভক্ত এক ছেলে ছিল। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা’ই তার একমাত্র সম্বল। সেই মা একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। গ্রাম্য ওঝা উশের মাকে দেখে জানালেন এই রোগ নিরাময়যোগ্য না। ধুঁকে ধুঁকে তার মাকে মরতে হবে।
তবে মাকে বাঁচানোর একটা উপায় আছে। উশের সম্প্রদায় যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে ৩ দিনের হাঁটা দূরত্বে ডিম পাহাড়ের অবস্থান। প্রতি পূর্ণিমা রাতে ডিম পাহাড়ের চূড়ায় এক অদ্ভুত ফুল ফোটে। আবার সকালবেলায় সেই ফুল ঝরে পড়ে। সেই ফুলের রস যদি খাওয়ানো যায় তবেই উশের মা সুস্থ হবে।
এদিকে ডিম পাহাড়ে আজ পর্যন্ত কেউই পৌঁছাতে পারে নি। যারাই চেষ্টা করেছে তারাই নিরুদ্দেশ হয়েছে। অনেকে বলে সেই পাহাড়ে এক দানব থাকে যে ফুলগুলোকে পাহারা দেয়। কেউ পাহাড়ে উঠলেই দানবটা তাকে মেরে ফেলে। এতসব জানা সত্ত্বেও উশে সিদ্ধান্ত নিলে সে যাবেই। একা যেতে সাহস না পাওয়ায় বন্ধু থুই প্রু কে সাথে নিয়ে রওনা দিল ডিম পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। পাহাড়ি পথে তিন দিন তিন রাত হাঁটবার পর অবশেষে তারা পৌঁছল ডিম পাহাড়ের চূড়ার কাছাকাছি।
থুই প্রু কে রেখে উশে একাই পাহাড়ের চূড়ার দিকে রওনা দিল। প্রয়োজন তার, ঝুঁকি সে একাই নিবে। ঠিক মাঝরাতে আকাশ যখন পূর্ণিমার আলোয় সাদা হয়ে গেছে, তখন উশেকে আবারও দেখতে পেল থুই। থুইকে উদ্দেশ্য করে উশে কিছু একটা ছুঁড়ে মারল। সেটা গড়াতে গড়াতে থুইয়ের কাছাকাছি এসে থামল। থুই দেখে একটা থলে যার ভিতরে পাথর আর সেই অতি আকাঙ্ক্ষিত পাহাড়ি ফুল। উশেকে ইশারা দিয়ে থুই জানাল যে সে ফুলগুলো পেয়েছে। উত্তরে উশে জানাল সে নিচে নামবে, থুই যেন তার জন্য অপেক্ষা করে।
উশের সাথে থুইয়ের সেই শেষ দেখা। আর কোনদিন তার খোঁজ পাওয়া যায় নি।
যাইহোক, আমরা বাস্তবে ফিরে আসি। থানচি থেকে আলীকদম পুরা রাস্তাটাই সবুজের চেয়েও সবুজ। পাহাড়ি রাস্তার ধারে ধারে ফুটে আছে নানা রঙের পাহাড়ি ফুল। একটু পর পর একটা বাজার, দোকানপাট। ওদের সহজ সরল জীবনযাত্রা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। পুরা রাস্তাটাই একটা নতুন এক্সপেরিয়েন্স। আপনি নিজে না গেলে সেটা কখনোই অনুভব করতে পারবেন না।
আলিকদম - থানচি রাস্তা বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু এবং ঝুঁকিপূর্ণ সড়কপথ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা প্রায় ২৬০০ ফিট। আলীকদম থেকে এই রাস্তা উপরের দিকে উঠেছে এবং ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা ছাড়িয়েছে ২৫০০ ফুটের ও বেশি । আলীকদম উপজেলা থেকে ৩০ কিলোমিটারের দুরের থানচি-আলীকদমে ডিম পাহাড়ের পুরোটাই পাহাড়ী পথ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে সময় লেগেছে ১০ বছর এবং নির্মাণকালীন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন।
দেশের ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে বর্তমানে খুবই জনপ্রিয় বান্দরবানের থানচি-আলীকদমের ডিম পাহাড়। প্রকৃতির অনাবিল সৌর্ন্দয্য আর বৈচিত্র্যময়তায় পূর্ণ বান্দরবানের থানচি-আলীকদম ডিম পাহাড় । পাহাড়, আকাশ, মেঘ এবং আকাশ মিশেমিশে এখানে একাকার ! ডিমপাহাড় (Dim Pahar) এর অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে।
ডিমপাহাড় কিভাবে যাবেন ?
প্রথম রুট -
কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থেকে জিপে( চাঁন্দের গাড়ি) করে চলে যাবেন আলীকদম উপজেলায়। এখানে আলীর গুহা, রূপমুহুরী ঝর্ণা দেখে রওনা দিতে পারবেন বাংলাদেশের ২য় উচ্চতম সড়ক পথ দিয়ে ডিমপাহাড় এর উদ্দেশ্যে। ডিম পাহাড় ঘুরে সরাসরি চলে যান থানচি বাজার। এখানে খাওয়া দাওয়া সেরে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন অথবা থানচি বিজিবির রিসোর্টে অবস্থান করতে পারেন।
দ্বিতীয় রুট হলো - ঢাকা বান্দরবান থানচি
বান্দরবান থেকে যেতে চাইলে আগে লোকাল বাসে কিংবা চান্দের গাড়িতে করে প্রথমে থানচি বাজার , সেখান এখান থেকে চান্দের গাড়ি কিংবা মোটরবাইকে করে ডিম পাহাড়। । যেখানে সেখানে...
Read moreডিম পাহাড় এবং আলীকদম-থানচি সড়ক...(বাংলাদেশের উচ্চতম সড়ক পথ).... আলীকদম... বান্দরবান...
বান্দরবানের আলীকদমে বসবাসকারী টিপরা সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের মধ্যে ডিম পাহাড় নিয়ে একটি উপকথা প্রচলিত আছে। উপকথাটা এই রকম:-
উশে প্রু খুব মা ভক্ত ছেলে। মা’কে সে খুবই ভালোবাসে। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মা’ই তাঁর একমাত্র সম্বল। সেই মা একদিন খুব অসুস্থ হয়ে পড়লেন। প্রাণ যায় যায় অবস্থা। গ্রাম্য ওঝা উশে’র মাকে দেখে জানালেন এই রোগ নিরাময়যোগ্য নয়। ধুঁকে ধুঁকে তাঁর মা’কে মরতে হবে। তবে হ্যাঁ, মা’কে বাঁচানোর একটা উপায় আছে। কিন্তু সেই উপায় অত্যন্ত ভয়ংকর। প্রাণপ্রিয় মা’কে বাঁচানোর জন্য উশে যে কোন ঝুঁকি নিতে রাজী। সে জানতে চাইল কি করতে হবে।
উশে’র সম্প্রদায় যেখানে বসবাস করে সেখান থেকে ৩ দিনের হাঁটা দূরত্বে ডিম পাহাড়ের অবস্থান। পাহাড়চূড়ার ডিমের মতন আকৃতির জন্যই এমন নামকরণ। প্রতি পূর্ণিমা রাত্রিতে ডিম পাহাড়ের চূড়ায় এক অদ্ভুত ফুল ফোটে। আবার সকালবেলায় সেই ফুল ঝরে পড়ে। সেই ফুলের রস যদি খাওয়ানো যায় তবেই উশে’র মা সুস্থ হবে।
ডিম পাহাড়ে আজ পর্যন্ত কেউই পৌঁছাতে পারে নি। যারাই চেষ্টা করেছে তারাই নিরুদ্দেশ হয়েছে। অনেকে বলে সেই পাহাড়ে এক দানব থাকে যে কি না ফুলগুলোকে পাহারা দেয়। কেউ পাহাড়ে উঠলেই দানবটা তাকে মেরে ফেলে। এতসব জানা সত্ত্বেও উশে সিদ্ধান্ত নিলে সে যাবেই। একা যেতে সাহস না পাওয়ায় বন্ধু থুই প্রু কে সাথে নিয়ে রওনা দিল ডিম পাহাড়ের উদ্দেশ্যে।
পাহাড়ি পথে তিন দিন তিন রাত হাঁটবার পর অবশেষে তাঁরা পৌঁছাল ডিম পাহাড়ের চূড়ার কাছাকাছি। থুই প্রু কে রেখে উশে একাই পাহাড়ের চূড়ার দিকে চলল। প্রয়োজন তাঁর, ঝুঁকি সে একাই নিবে। থুই প্রু দেখল তাঁর বন্ধু ধীরে ধীরে পাহাড়ের চূড়ার দিকে উঠে যাচ্ছে। ঠিক মাঝরাতে আকাশ যখন পূর্ণিমার আলোয় উদ্ভাসিত, তখন উশে কে আবারও দেখতে পেল থুই। থুইকে উদ্দেশ্য করে উশে কিছু একটা ছুঁড়ে মারল। সেটা গড়াতে গড়াতে থুইয়ের কাছাকাছি এসে থামল। থুই দেখে একটা থলে যার ভিতরে পাথর আর তাঁদের অতি আকাঙ্খিত পাহাড়ি ফুল। উশেকে ইশারা দিয়ে থুই জানাল যে সে ফুলগুলো পেয়েছে। উত্তরে উশে জানাল সে নিচে নামবে, থুই যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করে। উশের সাথে থুইয়ের সেই শেষ দেখা। আর কোনদিন তাঁর খোঁজ পাওয়া যায় নি। পুরো একদিন একরাত থুই উশের জন্য অপেক্ষা করে ফেরত আসে। মা ভাল হয়ে গেলেও উশে চিরদিনের জন্য হারিয়ে যায়। কিন্তু মায়ের জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ চিরদিনের মত টিপরাদের মনে স্থায়ী হয়ে যায়।
কতটুকু সত্য আর কতটুকু মিথ্যা সেটি না জানলেও ডিম পাহাড়ে যাওয়ার আগ্রহ তৈরির জন্য পর্যাপ্ত উপাদান যে এই উপকথায় আছে সেটি অস্বীকার করা যাবে না।
ডিম পাহাড়ের অবস্থান আলীকদম এবং থানচি থানার ঠিক মাঝখানে। এই পাহাড় দিয়েই দুই থানার সীমানা নির্ধারিত হয়েছে। খুব দুর্গম এই পাহাড়ে যাওয়ার কোন উপায় এতদিন ছিল না। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আলীকদম থেকে থানচি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক নির্মাণে সময় লেগেছে ১০ বছর এবং নির্মাণকালীন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ৩ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। তারমানে বুঝতেই পারছেন ডিম পাহাড়ের রাস্তা কতখানি দুর্গম।
ডিম পাহাড়ে যাওয়ার আগ্রহ বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আরেকটা তথ্য যোগ করে দেওয়া দরকার। আলিকদম-থানচি আঞ্চলিক সড়ক এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সবথেকে উঁচু রাস্তা। আলীকদম থেকে এই রাস্তা উপরের দিকে উঠেছে এবং ডিম পাহাড়ের কাছাকাছি রাস্তার উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ২৫০০ ফুট। সেখান থেকে আবার নিচের দিকে নেমে থানচিতে গিয়ে শেষ হয়েছে।
যেভাবে যাবেন:- ঢাকা-চকরিয়া-চকরিয়া থেকে চাঁদের গাড়ীতে আলীকদম-থানচি সড়ক ধরে ডিম পাহাড়...
আসুন ভ্রমনে গিয়ে যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা...
Read moreIt's not an easy task to go Din Pahar. It's the highest motorable road of Bangladesh. It's located in Bandarbans district.It is a tourist attraction situates near the Alikadam -Thanchi road. But most of the travelers who go there do not get to the main peak of Dim pahar. Every body thinks a shade just before the 23 km point of the road is the main Dim Pahar peak. At the 23 km point there is a Murong shop just beside the road. From there towards north, you have to take a trekking trail to go up to the main peak by foot which would take 30-45 minutes. From the main peak the view is awesome. Modok range of south-eastern Bandarban is clearly visible from this point. Dim pahar's highest elevation is 2,889 ft from the sea level. Dim pahar is also known as ''Woa dui hung'' to Murong tribal people . There is a Murong village named ''Yowng rung karbari para'' at the west face, just bellow the peak...
Read more